রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁর বাবা বিনয় দাস। নিহত পরিবারের বাড়ির পাশের বাড়িতেই বসবাস করতেন সিদ্ধার্থ।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশের কাছে ছেলেকে তুলে দেন বিনয় দাস। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীকে ‘স্যার’ এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ‘কাকি’ বলে ডাকতেন। কাছের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে এমন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
জানা গেছে, রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেন। তিনি নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় দুই-তিন বছর আগে মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন। শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে গণপতি, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি মুগ্ধ দাস। তিনি সিদ্ধার্থের মামাতো ভাইয়ের ছেলে বলে জানা গেছে। সিদ্ধার্থ নগরীর দেওয়ানবাড়ি এলাকার পিকে জুয়েলার্সে এবং মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করেন।
সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, পুলিশ এসে তাঁর ছেলের খোঁজ করেছিল। তখন তিনি সিদ্ধার্থকে তাঁর চাচার বাড়িতে ঘুমাতে যাওয়ার কথা জানান। পরে হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে তিনি নিজেই ছেলেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিনয় দাস বলেন, ‘এই এলাকায় মাদকের কারণে ঘরে ঘরে সন্তানরা নষ্ট হয়ে যাবে। আমি আমার একটা ছেলে ও প্রতিবেশীদের হারালাম। আমি চাই না আর কোনোদিন এ রকম ঘটনা ঘটুক। এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’
সিদ্ধার্থের মা পাপড়ী দাস বলেন, ‘আমার ছেলে খুব ভালো। ওকে মুগ্ধ নষ্ট করল।’
এদিকে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার শেষ রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় সেখানে যাওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করেন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
সূত্র: আরটিভি
Leave a comment