রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়ায় জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই অভিযুক্ত-সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আদালতে নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান শেষে রোববার গভীর রাতে বিচারক তাদের রিমান্ড ছাড়াই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে ও আসামীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। শিক্ষক গণপতি টের পেয়ে বাধা দিলে তারা তাকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরবর্তীতে একে একে শিক্ষকের স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে প্রার্থী এবং সবশেষে ঘুমন্ত শিশু প্রিয়মকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করার পর খুনিরা নির্দ্বিধায় বাথরুমে গোসল করে, টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে। ঘটনাটিকে ‘ডাকাতি’ বলে চালিয়ে দিতে তারা আলমারি ও ঘরের আসবাব ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে এবং আঙুলের ছাপ মুছতে মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পানিতে ডুবিয়ে রাখে।
এদিকে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পর তাদের মুখমণ্ডল বীভৎস ও ঝলসানো অবস্থায় পাওয়া নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। মরদেহের মুখে তরল পদার্থ পাওয়া যাওয়ায় সিআইডি রাসায়নিকের ব্যবহারের সন্দেহ প্রকাশ করলেও, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের মতে মরদেহ পচে যাওয়ার কারণেই এমন রূপ নিয়েছে। অপরদিকে, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী বাড়ি নির্মাণের কাজের জন্য মৃত্যুর মাত্র এক মাস আগে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছিলেন।
সেই অর্থ ডাকাতি করা খুনিদের মূল উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে মামলার বাদী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।নারকীয় এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষ। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের জবাবে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
Leave a comment