সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর গলায় রামদা ঠেকিয়ে বসতবাড়িসহ সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।
মামলায় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর তিন সৎ ভাইসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাছির উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি তাঁর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তার পরিচয়ে কয়েকজনকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে গিয়ে নাছির চৌধুরীকে একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাঁর গলায় রামদা ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক দলিলে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় বাধা দিতে গেলে নাছির চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী শেলী চৌধুরীকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, সংসদ সদস্য হওয়ার বহু আগে নাছির চৌধুরী যে বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন, সেটিসহ তাঁর অন্যান্য সম্পত্তিও জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
বাদী পারভিন আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। আসামিরা বাড়িতে গিয়ে তাঁর গলায় রামদা ঠেকিয়ে জোর করে সম্পত্তির দলিল লিখে নিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
মামলায় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর তিন সৎ ভাই—মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী মিলনসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক। তিনি বলেন, ‘গলায় দা ধরে জমি লিখে নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা বিষয়টি আইনিভাবেই মোকাবিলা করব।’
আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে দিরাই-শাল্লা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a comment