ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (নালসার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ই-মেইল করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
সম্প্রতি পাঠানো ওই ই-মেইলে প্রধান অতিথি নির্বাচনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি তেলুগু। তবে তাঁরা নিজেদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ই-মেইলটি পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারও রয়েছেন। গত ২৩ জুলাই ই-মেইলটি পাঠানো হলেও বিষয়টি পরে প্রকাশ্যে আসে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রধান অতিথি নির্বাচনের পুনর্বিবেচনার দাবি
জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও শিক্ষকেরা জানতে পারেন, শিগগিরই সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। তবে সমাবর্তনের তারিখ তখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক।
ওই অধ্যাপক বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি যে প্রধান বিচারপতি নিজেই এই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।’
বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে ওই অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। শিক্ষার্থীদেরও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রধান বিচারপতি অনুষ্ঠানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এরপরই শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে ই-মেইল করেন। একজন শিক্ষার্থী জানান, প্রথমে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই আবেদন করেন। পরে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন।
যে কারণে আপত্তি
কর্তৃপক্ষকে পাঠানো ই-মেইলে শিক্ষার্থীরা বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, যেহেতু সমাবর্তনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তাই প্রধান অতিথি নির্বাচনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লিতে শিক্ষার্থী ও যুবকদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটার অভিযোগ নিয়ে করা একটি আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে যুবক ও শিক্ষার্থীরা দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল করেন। ওই কর্মসূচিতে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি ওই আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনারা নিজেদের সময় নষ্ট করবেন না, আমাদের সময়ও নষ্ট করবেন না।’
নালসারের শিক্ষার্থীরা তাঁদের ই-মেইলে ওই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তবে পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদন না করে আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা বোঝাতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।
শিক্ষার্থীরা তাঁদের ই-মেইলে বলেন, ‘পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ অস্বীকার করেন এমন একজন ব্যক্তির হাত থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করা নালসারে আমাদের শেখানো মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।’
তাঁরা আরও বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং আপত্তি জানানোর সুযোগের প্রতি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকারের প্রতীক। তাই প্রধান অতিথি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার অনুরোধ জানান তাঁরা।
নালসার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য মেলেনি
শিক্ষার্থীদের ই-মেইল ও তাঁদের আপত্তির বিষয়ে বিবিসি নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্রীকৃষ্ণ দেবা রাও এবং রেজিস্ট্রার এন বাসন্তীর সঙ্গে ই-মেইল ও ফোনে যোগাযোগ করেছিল। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের (টিআইএসএস) সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ওই অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে।
টিআইএসএস কর্তৃপক্ষ গত ৩১ জুলাই জানায়, অনিবার্য কিছু কারণে সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।
Leave a comment