হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে চুক্তি হলে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর আশা, শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের আলোচকেরা দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত সমঝোতায় ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণাধীন জলসীমা দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নির্ধারণ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মাত্র ৩৩টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের সপ্তাহের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি।
এদিকে জাহাজ চলাচলের সম্ভাব্য খরচ নিয়েও পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশের সমপরিমাণ ফি দাবি করেছে। অন্যদিকে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে।
জাহাজ চলাচল ও বিমা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং বিমা–সংক্রান্ত বিধিনিষেধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পণ্য পরিবহনে চাপ কিছুটা কমতে পারে।
Leave a comment