ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জুনিয়র ১৬ বছর বয়সেই শারীরিক গড়নে তাঁর বাবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একই বয়সের তুলনায় এগিয়ে। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী পর্তুগিজ তারকা। তাঁর বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে ছেলে তাঁকে ছাড়িয়ে আরও বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তবে রোনালদোর মতে, শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, সফল হতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সাফল্যের ক্ষুধা।
সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের একাডেমিতে বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জুনিয়রের অনুশীলন দেখার সময় তাঁকে নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান রোনালদো।
ছেলের ব্যক্তিত্ব নিয়ে রোনালদো বলেন, ‘সে ভালো ছেলে। সৎ, ভালো ছেলে।’ পরিবারের অন্য সন্তানদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘অন্যরা একটু বেশি কঠিন। যারা আমার বাড়িতে আছে, ছোটগুলো। এই ছেলেকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’
রোনালদো এরপর নিজের ১৬ বছর বয়সের সঙ্গে ছেলের শারীরিক গড়নের তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তার বয়সী ছিলাম, তখন সে আমার চেয়ে একটু বড় এবং শক্তিশালী। আমি ছোট ছিলাম। আমার মনে হয়, সে আমার চেয়েও বড় হবে।’
তবে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে অন্য একটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন রোনালদো। তাঁর ভাষায়, ‘ক্ষুধাটাই সবচেয়ে কঠিন।’
রোনালদো জুনিয়র এরই মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাবের একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে সময় কাটানোর পর বাবা সৌদি আরবে যাওয়ার পর আল-নাসরের যুব দলে যোগ দেন তিনি।
২০২৫ সালে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৫ দলেও খেলেছেন রোনালদো জুনিয়র। ২০২৬ সালে জায়গা করে নেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলে।
ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুতেই বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের কোচিং ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন রোনালদো জুনিয়র। একই সঙ্গে তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপও অনেক বেশি। কারণ, তাঁর বাবা ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালিতে লিগ শিরোপা জিতেছেন, পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতায় পরিণত হয়েছেন।
রোনালদোর নিজের সাফল্যের পেছনেও শুধু প্রতিভা কাজ করেনি। কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার মানসিকতাই তাঁকে দীর্ঘ সময় শীর্ষ পর্যায়ে রেখেছে। ছেলের ক্ষেত্রেও সেই মানসিকতাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
রোনালদোর মতে, শারীরিক শক্তি বাড়ানো এবং ফুটবল দক্ষতা উন্নত করা সম্ভব। কিন্তু সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্ষুধা’ তৈরি করা অনেক বেশি কঠিন।
রোনালদো জুনিয়রের সামনে তাই বড় চ্যালেঞ্জ। বাবার মতো সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশার পাশাপাশি তাঁকে নিজের আলাদা পরিচয়ও তৈরি করতে হবে। সেই পথে নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রোনালদোর ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল স্পোর্টিং লিসবনের তরুণ প্রতিভা হিসেবে। সেখান থেকে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মানসিকতার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা। এখন রোনালদো জুনিয়র সেই একই মানসিকতা নিজের মধ্যে কতটা তৈরি করতে পারেন, সেটিই হতে পারে তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অন্যতম বড় বিষয়।
Leave a comment