যুক্তরাষ্ট্রের লাগাতার বিমান হামলার জবাবে এবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন দিয়ে এই তীব্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত ‘আমেরিকান শত্রুর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অবস্থান’ লক্ষ্য করে সূক্ষ্ম লক্ষ্যভেদী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ওই সুনির্দিষ্ট স্থাপনাটি ইতিপূর্বে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল; তাই অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতেই এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা পেট্রাও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের এই খবরটি নিশ্চিত করেছে।
এদিকে তেহরান থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (১৩ জুলাই) রাতেও মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে তীব্র ও ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে আবু মুসা, কেশম ও কিশ দ্বীপে নতুন করে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্দর আব্বাস, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোনারাক ও চাবাহারেও আগের রাতগুলোর মতোই ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে মার্কিন সেন্টকম। পাশাপাশি ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো থাকা বুশেহর, খুজেস্তান, ওমিদিয়েহ, জাম ও কানগানেও মার্কিন বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই লাগাতার আগ্রাসনের জবাবে পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির যোগাযোগ কেন্দ্র, প্রধান জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে তারা সফল হামলা চালিয়েছে। একই সাথে হরমুজ প্রণালির ওপর নজরদারিতে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘এমকিউ-১’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে ইরানি বাহিনী। দুই দেশের এই মুখোমুখি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
Leave a comment