কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজারের জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও দানবাক্স খোলা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে মাজারের তিনটি ডেগ এবং ছোট-বড় পাঁচটি দানবাক্স খোলা হয়। এরপর সেখান থেকে পাঁচ বস্তা টাকা সংগ্রহ করে গণনা শুরু করা হয়।
টাকা গণনার কাজে সহযোগিতা করছেন দরগাহ মাদ্রাসার অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী। এ সময় মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন–সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগে জমা হওয়া অর্থ গণনা করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে দানবাক্সে তালা লাগিয়ে চার দিন পর তা খোলা হয়েছিল। তখন চার দিনে দানবাক্সে জমা হয়েছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে ওই অর্থ সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদি বলেন, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বর্তমান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দরগাহ, মসজিদ ও মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পরিকল্পনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। দানের অর্থের সুষম বণ্টন নিয়ে মানুষের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরি করা হবে।
জানা গেছে, দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও ভক্তরা প্রতিদিন হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার, শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময় তাঁরা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন।
তবে মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম দানবাক্স ও ঐতিহাসিক ডেগে জমা হওয়া অর্থ প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে।
Leave a comment