মো. ইয়াছিন সরকার, কুমিল্লা
‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম সারোয়ার রাব্বী। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। এর মাধ্যমে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়। জনসচেতনতা বাড়লে অনেক বিরোধ স্থানীয়ভাবে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে, ফলে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণচন্দ্র দে, মুরাদনগর থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন আহাম্মদ এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক নির্মল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এখানে নিষ্পত্তি করা যায়। এ ছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, স্থাবর সম্পত্তি দখলসংক্রান্ত বিরোধ, চুরি, কলহ, মারামারি এবং ভরণপোষণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।
বক্তারা গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জনগণকে উচ্চ আদালতে না গিয়ে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে এনজিও ও গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারেরও দাবি তোলেন তাঁরা।
কর্মশালায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৫৫টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ দশমিক ৮২ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলার সংখ্যা ১৩৬টি।
Leave a comment