এমরান হোসেন, জামালপুর
জামালপুরের মাদারগঞ্জে এক বাসচালককে মারধর এবং ছাত্রদলের এক কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে মাদারগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকাগামী রাজিব পরিবহনের একটি বাস জোড়খালী এনপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বের বিরোধের জেরে বাসচালক মমিনুল ইসলামের সঙ্গে কাউন্টার মাস্টার শফিকুল ইসলাম ও রহমতুল্লাহর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা চালককে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী বিজয় আহমেদ বাসটি ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে কথা বললে গুনারীতলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে সোহেল রানা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিজয়কে কুপিয়ে আহত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় বিজয়কে প্রথমে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মাদারগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহনশ্রমিকেরা।
খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কমল চন্দ্রের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
কাউন্টার মাস্টার শফিকুল ইসলাম বলেন, “শনিবার রাতে নির্ধারিত সময়ে বাস না আসায় যাত্রীদের অন্য বাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে বাস এলে চালকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আমাকে ধাক্কা দেন। এরপর আমি তাঁকে একটি থাপ্পড় দিই। পরবর্তী ঘটনা সম্পর্কে আমি জানি না।”
অন্যদিকে সোহেল রানা বলেন, “বাসটি সড়কের মাঝে থাকায় যানজট তৈরি হচ্ছিল। আমি বাস সরাতে বললে বিজয় আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং আমাকে থাপ্পড় মারে। পরে উত্তেজিত হয়ে আমি তাকে আঘাত করি।”
মাদারগঞ্জ পৌর বাসটার্মিনাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ মাখন বলেন, “বর্তমানে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
Leave a comment