ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট
সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ সাতজন দস্যু পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আবার আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
এ সময় কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বন বিভাগ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালেও ছোট সুমন বাহিনী র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনের সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, অভিযানের কারণে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তাঁর সহযোগীরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলার সুন্দরবনের নন্দবালা খালসংলগ্ন এলাকায় ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য অস্ত্র ও গুলিসহ অনানুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় একনলা বন্দুক, দুটি পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি জব্দ করা হয়।
আত্মসমর্পণের পর সুমন হাওলাদার বলেন, ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণের পর তিনি ব্যবসা করে জীবন চালাচ্ছিলেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে আবার দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, এবারও আত্মসমর্পণের সুযোগ পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান।
অন্য সদস্যরা বলেন, সারাক্ষণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে থাকতে হতো। ঠিকমতো খাওয়া-ঘুমও হতো না। মৃত্যুভয় নিয়ে চলতে হতো সব সময়। কোস্ট গার্ড সুযোগ দেওয়ায় তাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও মাহফুজ মল্লিক (৩৪)। তাঁদের মধ্যে প্রথম ছয়জন মোংলার এবং মাহফুজ রামপালের বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় সুন্দরবনের সব দস্যু বাহিনীকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোস্ট গার্ড জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৭৮ রাউন্ড কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ২১ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
Leave a comment