দেশজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের (Measles) প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম এবং হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে আরও ৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের কারণে ৩ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন ও প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার (২০ মে) সকাল আটটা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪২৩ জন শিশুর শরীরে হামের প্রাথমিক উপসর্গ (জ্বর ও শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ) শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ক্লিনিক্যালি ও ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া নতুন হাম রোগী শনাক্তের সংখ্যা ২০৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহামারি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। ১৫ মার্চ থেকে আজ ২১ মে পর্যন্ত প্রায় দুই মাসে দেশে মোট ৫৯ হাজার ২৭৯ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে মোট ৮ হাজার ২৭৫ জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চিকিৎসা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের জটিল উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৬ হাজার ৪০৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিবিড় চিকিৎসার মাধ্যমে এদের মধ্যে ৪২ হাজার ৩৩৬ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে এখনো দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কয়েক হাজার শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪০৫ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৩ জন। সব মিলিয়ে এই প্রাদুর্ভাবে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮৮ জনে। নিহতদের সিংহভাগই প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলের এবং তাদের বড় একটি অংশ নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতাবহির্ভূত ছিল বলে চিকিৎসকেরা ধারণা করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ, যা মূলত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। হঠাৎ এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনে রাখা, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং ভিটামিন-এ ক্যাপসুল নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে।
Leave a comment