যুক্তরাজ্যের উচ্চগতির রেল প্রকল্প HS2–এর ব্যয় ও সময়সীমা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী Heidi Alexander জানিয়েছেন, প্রকল্পটির মোট ব্যয় সর্বোচ্চ ১০২.৭ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং প্রথম ট্রেন চলাচল শুরু হতে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সরকারি পর্যবেক্ষণ ও সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, প্রকল্পের ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এবং নির্ধারিত সময়সূচিও বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি এখন অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণ ব্যয়ের বৃদ্ধি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জটিলতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে মোট খরচ ও সময়সীমা উভয়ই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
HS2 প্রকল্পটি মূলত লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টারসহ যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে দ্রুতগতির রেল সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল যাতায়াত সময় কমানো, আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং জানান, বাস্তবতা বিবেচনায় সময় ও ব্যয়ের পুনর্মূল্যায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর নজরদারি ও সংশোধন আনা হতে পারে।
এদিকে, প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সমালোচনা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এত দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয়ে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সুবিধা দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
Leave a comment