ষাট বছরের দীর্ঘ অপেক্ষ ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কোনো শিরোপা নেই ইংল্যান্ডের। সেই খরা ঘোচাতে এবার অভিনব এক পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন ইংল্যান্ডের নতুন প্রধান কোচ ইংল্যান্ড ন্যাশনাল টিম এর দায়িত্বে থাকা থোমাচ টুখেল।
ইংলিশ ফুটবলের ভেতরে নতুন উদ্দীপনা ও ঐক্য গড়ে তুলতে টুখেল এবার বেছে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী ‘ট্যাটু’ কৌশল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইংল্যান্ড যদি আগামী বিশ্বকাপে শিরোপা জেতে, তাহলে দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সাপোর্ট স্টাফ এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) কর্মকর্তারা সবাই স্মারক ট্যাটু করাবেন।
দল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই ‘গণ-ট্যাটু’ পরিকল্পনা শুধু মাঠের ১১ জনের জন্য নয়, বরং পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট এবং প্রস্তুতিতে যুক্ত সবাইকে একসূত্রে বাঁধার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। এমনকি একটি মার্কিন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ফিফা কর্মকর্তাকেও এই উদ্যোগে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্পোর্টিং কানসাস সিটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যালান ডিট্রিখ জানান, গত বছর ইংল্যান্ড দল যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুতি সফরে গেলে টুখেল তাঁর এই পরিকল্পনার কথা প্রথমবারের মতো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোচ টুখেল তাঁদের সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন, দল বিশ্বকাপ জিতলে তাঁরাও ট্যাটু করাবেন কি না—এবং আবেগঘন মুহূর্তে তাঁরা সম্মতি দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্যাটুর নকশায় থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতীক এবং ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল চিহ্ন। দলের ভেতরে এই উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে বিভিন্ন ক্লাবের খেলোয়াড়দের মধ্যে মানসিক দূরত্ব দূর করে একতা তৈরির চেষ্টা করছেন টুখেল। ক্লাব ফুটবলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী দলে খেলা খেলোয়াড়দের এক ছাদের নিচে আনা জাতীয় দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ—এই জায়গায় টুখেলের কৌশল মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইংল্যান্ড তাদের ক্যাম্প স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে। অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করা হবে সোয়োপ পার্কের মাঠ, যেখানে উন্নত মানের ঘাস ও আধুনিক সুবিধা রয়েছে। দলটির লক্ষ্য মূল টুর্নামেন্টের পরিবেশের সঙ্গে আগেভাগেই মানিয়ে নেওয়া।
টুখেলের এই অভিনব উদ্যোগ এখন ইংলিশ ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে—এটি কৌশলগত প্রভাব ফেলবে নাকি শুধুই আবেগের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Leave a comment