ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। গত রাতে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার তিন দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই মস্কো তাদের আক্রমণের তীব্রতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা সংস্থা (DSNS) জানিয়েছে, কিয়েভের দার্নিৎস্কি জেলায় একটি নয়তলা আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে ভবনটি আংশিক ধসে পড়ে। উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অন্তত ২০ জন আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় দুই শিশুসহ আরও ৪৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার কিয়েভে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত এক রাতে রাশিয়া ৬৭০টিরও বেশি ড্রোন এবং ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের ১৮০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এটি অন্যতম বৃহত্তম বিমান হামলা। তিনি আরও জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল সরবরাহের জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়ার এই নির্বিচার হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন একে ‘মৃত্যু ও ধ্বংসের রাত’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ইউক্রেনের জন্য ৬০০ কোটি ইউরোর নতুন একটি ড্রোন সহায়তা প্যাকেজ চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই হামলা বন্ধে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কিয়েভ ছাড়াও খারকিভ ও ওডেসার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামো এই হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে হাজারো উদ্ধারকর্মী ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
Leave a comment