বাংলাদেশে বসবাসরত সকল ধর্মীয় সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।
ধর্মমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। যদি আমি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি, তবে আমার এই পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। সেক্ষেত্রে আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেখানে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার সেই নিপীড়ন বন্ধে ভারতকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাবে। তবে প্রতিবেশী দেশে হামলার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো আঘাত বরদাশত করা হবে না।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, বিশেষ করে তারেক রহমানের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো দেশ গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তারেক রহমানের ভালো কাজগুলোকে সহ্য করতে পারছে না। বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা না করে সরকারকে কেবল বিব্রত করার চেষ্টা করছে।”
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা ছলে-বলে গণতন্ত্র হত্যার চেষ্টা করছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি সাম্প্রদায়িক উসকানিদাতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রাখতে ওলামা-মাশায়েখসহ সকল ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংলাপে বিএসআরএফ-এর নেতৃবৃন্দ এবং সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই কড়া বার্তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment