পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী শনিবার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah, বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতিন নবীনসহ এনডিএ-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
শপথগ্রহণের আগে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে কলকাতায় পৌঁছেছেন অমিত শাহ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি Shamik Bhattacharya ও বিজেপি নেতা Suvendu Adhikari। এ সময় শুভেন্দুকে কাছে টেনে নিয়ে পিঠ চাপড়ে দেন অমিত শাহ, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নতুন সরকারকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিধানসভা ভবনে রং করা, চেয়ার-টেবিল সংস্কার এবং মুখ্যমন্ত্রী, স্পিকার ও মন্ত্রীদের কক্ষ পরিষ্কার ও সাজানোর কাজ চলছে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনে জয় পেয়েছেন। নিজের নন্দীগ্রাম আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতীকী পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই তিনি রাজ্যে বিজেপির অন্যতম প্রধান সংগঠক ও প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূলবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নির্বাচনী সাফল্যের কারণে মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী। বিশেষ করে ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়কে বিজেপি কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে।
তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে আরও কয়েকটি নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে আছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সাবেক রাজ্যসভার সদস্য Swapan Dasgupta। দলীয় একটি অংশ মনে করছে, স্বপন দাশগুপ্ত একজন বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্যদিকে, সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে শমীক ভট্টাচার্যও আলোচনায় রয়েছেন।
Leave a comment