অ্যাথলেটিকস বিশ্ব আজ এক নতুন যুগের সূচনা দেখল। যা এতদিন মানব সক্ষমতার বাইরে বলে ধারণা করা হতো, সেই ‘২ ঘণ্টার দেওয়াল’ ভেঙে চুরমার করে দিলেন কেনিয়ার দৌড়বিদ সেবাস্তিয়ান সাওয়ে। গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত লন্ডন ম্যারাথনে ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে ম্যারাথনের ইতিহাসে প্রথম মানব হিসেবে ২ ঘণ্টার কম সময়ে ৪২.১৯৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার কীর্তি গড়লেন এই কেনিয়ান কিংবদন্তি।
এবারের লন্ডন ম্যারাথন কেবল সাওয়ের একার জয়ের গল্প নয়, এটি ছিল গতির এক মহাকাব্য। দ্বিতীয় হওয়া ইথিওপিয়ার ইয়োমিফ কেজেলচাও ২ ঘণ্টার নিচে (১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ড) দৌড় সম্পন্ন করে ইতিহাস গড়েছেন। অন্যদিকে, ২ ঘণ্টা ২৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন উগান্ডার জ্যাকব কিপলিমো।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই শীর্ষ তিন দৌড়বিদই প্রয়াত কেনিয়ান কিংবদন্তি কেলভিন কিপটামের গড়া আগের বিশ্বরেকর্ডটি (২ ঘণ্টা ৩৫ সেকেন্ড) ভেঙে দিয়েছেন। কিপটাম ২০২৩ সালের অক্টোবরে শিকাগো ম্যারাথনে সেই রেকর্ড গড়েছিলেন।
দৌড়ের শুরু থেকেই সাওয়ে, কেজেলচা এবং কিপলিমোর মধ্যে ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন তমিরাত তোলা এবং সাবেক লন্ডন ম্যারাথন বিজয়ী আমোস কিপরুতোও প্রথম ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত মূল লড়াইয়ে ছিলেন। তবে এরপরই সাওয়ে ও কেজেলচা অন্যদের থেকে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন। শেষ এক কিলোমিটারে সাওয়ে তার বিধ্বংসী গতি বাড়িয়ে কেজেলচাকে পেছনে ফেলে এককভাবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান।
বিজয়ী হওয়ার পর আবেগাপ্লুত সাওয়ে বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক দিন। শুরু থেকেই আমরা খুব ভালো ছন্দে ছিলাম এবং শেষের দিকে আমি দারুণ শক্তি অনুভব করছিলাম। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারণেই এই রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হয়েছে। গত কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রম আজ সার্থকতা পেল।”
ইথিওপিয়ার তিগস্ত আসেফা ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের গড়া আগের রেকর্ডটি ভেঙে লন্ডন ম্যারাথনের শিরোপা অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। লন্ডনের ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস অনুকূল আবহাওয়া এবং হাজার হাজার দর্শকের উন্মাদনা এই রেকর্ড গড়ার পথে বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
বিবিসির কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার স্টিভ ক্রাম এই দৌড়কে ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সাওয়ের এই সাফল্য অ্যাথলেটিকসের জন্য একটি বৈপ্লবিক মুহূর্ত, যা প্রমাণ করল মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো বাধাই চিরস্থায়ী নয়।
Leave a comment