রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের টার্গেট করে একটি চক্র বাইরে থাকা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরই রোগীদের ঘিরে ধরছেন দালালরা। তারা স্বল্প খরচে দ্রুত পরীক্ষা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের বাইরে নিয়ে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, চিকিৎসক তাকে ১০টি টেস্ট দেন। এর মধ্যে ৭টি হাসপাতালে করালেও বাকি ৩টি বাইরে করাতে বলা হয় এবং এজন্য এক দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
আরেক রোগী সলিম উদ্দিন বলেন, তার স্ত্রীর জন্য দেওয়া কিছু পরীক্ষা লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করে বাইরে করাতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তি তাকে ছাড়ের কথা বলে একটি কার্ডও দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই চক্রে বিপুলসংখ্যক লোক জড়িত। তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে ঘুরে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেখে বাইরে পরীক্ষা করানোর জন্য প্রলুব্ধ করেন। সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে তারা কমিশন পান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং ভুল রিপোর্টের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
হাসপাতালের সামনে গড়ে উঠেছে ২০টির বেশি নামসর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানে পুরোনো যন্ত্রপাতি ও অপ্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে পরীক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরিবর্তে ওয়ার্ড বয় বা আয়া রোগীদের প্রাথমিক পরীক্ষা করছেন। সার্জারি বিভাগে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ আছে, বেড পেতেও রোগীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক সময় বারান্দায় থাকতে হয়। হাসপাতালের পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগীরা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দালালের উপস্থিতি রয়েছে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, হাসপাতালের বাইরে থাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ন্ত্রণ করা তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তবে কোনো স্টাফ জড়িত থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment