যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই শিথিলতা কেবল সরাসরি আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; একইসঙ্গে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, “ইরান সরকার বর্তমানে অভ্যন্তরীণভাবে গুরুতর বিভক্ত। তেহরানের পক্ষ থেকে একটি সুসংগত ও সমন্বিত প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আমাদের ইরান বিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।”
বন্ধুবৎসল দেশ হিসেবে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে ট্রাম্প সাময়িকভাবে সরাসরি হামলা থেকে বিরত থাকার ইঙ্গিত দিলেও তেহরানকে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ওয়াশিংটন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ (Blockade) অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা সব দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকব। যতক্ষণ না ইরানের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসছে এবং আলোচনার পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি ঘটছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।”
বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি সরবরাহ রুটে মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা অবস্থানের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল—একদিকে যুদ্ধবিরতি এবং অন্যদিকে নৌ অবরোধ—ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করার একটি শক্তিশালী প্রচেষ্টা।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ একই সাথে কূটনৈতিক নমনীয়তা এবং সামরিক কঠোরতার সংমিশ্রণ। সরাসরি যুদ্ধ এড়ানোর সুযোগ দিলেও নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখার কৌশলগত চাপ তিনি বহাল রেখেছেন। তেহরান এখন এই চাপের মুখে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং কোনো সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আসে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।
সূত্র: আলজাজিরা
Leave a comment