পূর্ব এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে নতুন প্রজন্মের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘কেসিএনএ’ নিশ্চিত করেছে যে, সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ক্লাস্টার বোমা’ বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ সফলভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ‘হুয়াসং-১১’ সিরিজের পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিশেষ ধরণের ক্লাস্টার ওয়ারহেড এবং ফ্র্যাগমেন্টেশন মাইন বহন করতে পারে। উত্তর কোরিয়ার দাবি মতে, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র একযোগে ৬.৫ থেকে ৭ হেক্টর এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু হিসেবে একটি দ্বীপে এগুলো নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লাস্টার বোমা আকাশেই বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র বোমা বা ‘সাব-মিউনিশন’ ছড়িয়ে দেয়। যা বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম দিয়ে এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বোমগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত দুরূহ।
এবারের পরীক্ষায় বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কিম জং উনের কিশোরী কন্যা কিম জু আয়ে। কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বাবা ও মেয়ে উভয়েই কালো চামড়ার জ্যাকেট পরে একটি উপকূলীয় কেন্দ্র থেকে এই বিধ্বংসী কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, বারবার সংবেদনশীল সামরিক অভিযানে কন্যার উপস্থিতি এটিই প্রমাণ করে যে, কিম জু আয়ে-কে ভবিষ্যতের সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সফলতায় কিম জং উন গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই ধরণের ক্লাস্টার অস্ত্র আমাদের সামরিক সামর্থ্যকে এক অপরাজিত উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
এদিকে, গত রবিবারই দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র এই উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে কড়া নিন্দা জানিয়েছে। ওয়াশিংটন ও সিউলের দাবি, এই পরীক্ষা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের চরম লঙ্ঘন। এই ঘটনার ফলে কোরীয় উপদ্বীপে নিরাপত্তা ঝুঁকি নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
Leave a comment