দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকনিরপাট বাজারে অবশেষে গরুর গোশত বিক্রি শুরু হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাজারের জামে মসজিদের সামনে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে গোশত বিক্রি করা হয়।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল রাতে দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় “অদৃশ্য চাপে গরুর গোশত বিক্রি নিষিদ্ধ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে নজরে আসে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ প্রেক্ষিতে ১২ এপ্রিল কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি সমাধানে দায়িত্ব নেন।এর ধারাবাহিকতায় ১৩ এপ্রিল নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বদরুজ্জামান রিসাদ এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হিল জামানের উপস্থিতিতে ডাকনিরপাট বাজার সংলগ্ন একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও মুসলিম ও হিন্দু (সনাতন) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
আলোচনার একপর্যায়ে জুরি বোর্ড গঠন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সময় নেওয়া হয়। পরে রাত ৮টায় ঘোষণা দেওয়া হয় যে, আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত থাকবে। তবে এ ঘোষণায় উপস্থিত স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তারা “মানি না, মানবো না” স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে গরু জবাইয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে গরুর গোশত বিক্রি শুরু হয়।গোশত কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা (২৫) বলেন, “জন্মের পর এই প্রথম এই বাজার থেকে গোশত কিনতে পারলাম। খুব ভালো লাগছে।” অপরদিকে ষাটোর্ধ আয়নাল হোসেন জানান, “প্রায় ৩০ বছর পর এই বাজারে গোশত কিনতে এসেছি, খুব আনন্দ লাগছে।”
এ বিষয়ে দাঈ ও জেলা জিম্মাদার ফিরদাউস হাসান কুড়িগ্রামী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় গোশত বিক্রি বন্ধ ছিল। আজ আলহামদুলিল্লাহ, তা শুরু হয়েছে। মানুষ তাদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পেয়েছে।”
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার আমলে প্রতিষ্ঠিত এই বাজারে দীর্ঘদিন ধরে গরুর গোশত বিক্রি বন্ধ ছিল। বাজারটির দক্ষিণ পাশে একটি হিন্দু মন্দির এবং উত্তর পাশে প্রায় সাড়ে ৩৫০ মিটার দূরত্বে একটি মসজিদ অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে প্রায় দেড় হাজারের বেশি মুসলিম ও প্রায় ৬০০ হিন্দু ভোটার বসবাস করেন।
Leave a comment