গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ৩৯টি পৃথক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বুধবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যবর্তী সময়ে চালানো এই হামলাগুলোতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কৌশলগত অবস্থান, সেনা সমাবেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হিজবুল্লাহর এই হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের বসতি এলাকা ছাড়াও সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলি সামরিক যান এবং অগ্রবর্তী সেনা অবস্থানগুলোতে তারা নির্ভুল আঘাত হেনেছে। হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে চালানো এই অভিযানগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি সামরিক সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা এবং সীমান্তে তাদের চলাচলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
হিজবুল্লাহর এই ব্যাপক অভিযানের দাবির বিপরীতে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সাধারণত সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কড়া নজরদারি বজায় রাখলেও, ৩৯টি হামলার এই পরিসংখ্যান নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাইরেন বাজার সাথে সাথেই সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিনে ৩৯টি অভিযানের দাবি হিজবুল্লাহর ক্রমবর্ধমান শক্তির বহিঃপ্রকাশ। এটি কেবল পাল্টাপাল্টি হামলা নয়, বরং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়ার একটি সংকেত। অন্যদিকে, ইসরায়েলও হাত গুটিয়ে বসে নেই; তারা সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি বিমান হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সীমান্তে অব্যাহত এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং এক পক্ষের হামলার পর অন্য পক্ষের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলছে। উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ এখন এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রধান শিকারে পরিণত হয়েছে।
Leave a comment