কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক নজরদারি ও হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রেজাই সাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই জলসীমায় ‘পুলিশ’ হওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসিন রেজাই সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে পুলিশের ভূমিকা পালন করতে চান। কিন্তু এটি কি আপনাদের কাজ? যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বৃহৎ সামরিক বাহিনীর জন্য এটি কি শোভনীয়?” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের সমুদ্রসীমায় অবরোধ কার্যকর করতে বা নজরদারি চালাতে আসা মার্কিন জাহাজগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম আঘাতেই সাগরে তলিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।
মোহসিন রেজাই ইরানের সামরিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ইরানের বিশেষ বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর’ (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর গত মাসে তিনি পুনরায় সক্রিয় রাজনীতি ও সামরিক নীতি নির্ধারণে ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ বিদ্যমান। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণার পর তেহরানের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেজাইয়ের এই মন্তব্য কেবল মৌখিক হুমকি নয়, বরং এটি ইরানের পরিবর্তিত সামরিক কৌশলেরই প্রতিফলন। মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান যে পশ্চিমাবিরোধী অবস্থানে আরও কঠোর হচ্ছে, এই বিবৃতি তারই ইঙ্গিত দেয়। এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
Leave a comment