ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এর যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে বাকিংহাম প্যালেস। আসন্ন এই রাষ্ট্রীয় সফরে আলোচিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন-এর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে রাজা কোনো প্রকার সাক্ষাৎ করবেন না বলে প্রাসাদের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি পর্যালোচনার সময় এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। সফর চলাকালীন রানি ক্যামিলা নারীর প্রতি সহিংসতা ও গৃহ নির্যাতনবিরোধী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে পারেন। তবে এপস্টিন ইস্যুতে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা এড়ানোর সিদ্ধান্তটি রাজকীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই রাজা চার্লসের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাকিংহাম প্যালেস মনে করছে, বহু রাজত্বকাল এবং একাধিক প্রেসিডেন্ট শাসনামল পার করে আসা যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক জোরদারে রাজা চার্লস গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারেন।
সফর প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ মিত্র। বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে কৌশলগত মতভেদ থাকলেও সম্পর্কের গভীরতা ও গুরুত্ব অপরিবর্তিত। এই সফর দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।”
মঙ্গলবার প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাজা চার্লসের বৈঠক। এছাড়া হোয়াইট হাউসে রাজকীয় এই দম্পতির সম্মানে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হবে। তবে সফরের কূটনৈতিক হাইলাইট হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন কংগ্রেসে রাজার ভাষণকে, যেখানে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে পারেন।
প্রাসাদ সূত্রগুলো বলছে, রাজা চার্লসের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের দুই তীরের বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং কূটনৈতিক শীতলতা দূর করা।
Leave a comment