পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ২১ ঘণ্টার সমঝোতা আলোচনা কেন ব্যর্থ হলো, তার এক বিস্ফোরক কারণ সামনে এনেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার দাবি, আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর করা একটি ফোন কলই সব সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
আরাঘচি জানান, বৈঠকের শুরু থেকে আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছিল। এমনকি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে, অনেকগুলো বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছিল। কিন্তু আলোচনার মাঝপথে জেডি ভ্যান্সের কাছে নেতানিয়াহুর কল আসার পরই পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। আরাঘচির ভাষ্যমতে, ওই ফোন কলের পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান থেকে সরে এসে সমঝোতার চেয়ে ইসরায়েলের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আমেরিকা যুদ্ধের ময়দানে যা পায়নি, তা আলোচনার টেবিলে পাওয়ার চেষ্টা করছিল।”
বৈঠক চলাকালীন জেডি ভ্যান্স ছয় থেকে ১২ বার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখেছেন। মার্কিন প্রশাসন বা ইসরায়েল এখনও আরাঘচির এই দাবি স্বীকার বা অস্বীকার কোনটিই করেনি।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ইরানের ‘পারমাণবিক জেদকে’ দায়ী করেছেন। তার দাবি, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসতে রাজি হয়নি, যা আমেরিকার জন্য ছিল এক অনড় বাধা।
এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে জলপথে। সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যা থেকেই হরমুজ প্রণালী অবরোধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে টোল বা শুল্ক দিয়ে কোনো জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।
Leave a comment