রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট | সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বনজ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমন এবং জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
গত দেড় বছরে করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু চক্রের মোট ৬১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি ফাঁদসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন শিকারিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল পরিমাণ রেণুপোনা জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোস্ট গার্ড সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র পুনরায় সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এসব বনদস্যুর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথভাবে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” পরিচালনা করা হচ্ছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা এবং জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলে জানানো হয়।
বনদস্যু দমনে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে হারবারিয়া, কৈখালী, কয়রা, নলিয়ান, মান্দারবাড়ি ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মৎস্যজীবী, বাওয়ালি ও স্থানীয় জনগণের ওপর দস্যুদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধও হ্রাস পেয়েছে। নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জানমাল রক্ষায় কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। দস্যু চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
Leave a comment