পটুয়াখালীতে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও জোড়পূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা পলাতক রয়েছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে আসামির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর ভুক্তভোগী নারী তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সে সময় অভিযুক্ত শহিদুল তাকে বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বোনের বাসায় নিয়ে তাকে প্রথম ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গর্ভের সন্তান নষ্ট করার প্রস্তাব দিলে তাতে রাজি হননি ভুক্তভোগী। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বলে ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়। পটুয়াখালী সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আদালতের নির্দেশনার কপি হাতে পাওয়া মাত্রই আসামিকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে জেলা জামায়াত নেতৃত্ব জানায়, আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment