প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত হাইতিতে এবার এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি নেমে এসেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত উনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত ঐতিহাসিক ‘লাফেরিয়ের সিটাডেল’ (Citadel Laferrière) দুর্গে বার্ষিক উৎসব উদযাপনকালে পদদলিত হয়ে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষের সমাগমের মধ্যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় প্রশাসন ও হাইতির নর্ড ডিপার্টমেন্টের সিভিল প্রোটেকশন প্রধান জঁ অরি পতি জানান, উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে নির্মিত এই বিশাল দুর্গে শনিবার পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। মূলত দুর্গের প্রবেশপথে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ হুড়োহুড়ি শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সরু প্রবেশপথে অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে।
দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং পিচ্ছিল পথে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে উদ্ধারকর্মীদের বেগ পেতে হয়। জঁ অরি পতি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ আহতের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
হাইতির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিল এমে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই উৎসবে বিপুল সংখ্যক তরুণ ও শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছেন, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনও চূড়ান্ত পরিসংখ্যান জানানো হয়নি।
লাফেরিয়ের সিটাডেল হাইতির জাতীয় গর্ব এবং স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এই দিনে দুর্গটি পরিদর্শনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্গের পাদদেশে প্রিয়জনদের খোঁজে স্বজনদের আর্তনাদ। স্থানীয় হাসপাতালগুলো বর্তমানে আহতদের চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছে। প্রশাসন থেকে ভবিষ্যতে এই ধরণের ঐতিহাসিক স্থানে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিয়ম জারির আভাস দেওয়া হয়েছে।
Leave a comment