Home আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্সি মেয়াদের শেষে ‘গণ-ক্ষমার’ পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক

প্রেসিডেন্সি মেয়াদের শেষে ‘গণ-ক্ষমার’ পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প

Share
Share

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সি মেয়াদের অন্তিম সময়ে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নজিরবিহীন ‘গণ-ক্ষমা’ (Mass Pardon) প্রদানের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। গত এক বছর ধরে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও ঘরোয়া বৈঠকে তিনি তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ মার্কিন বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও প্রচলিত আইনি কাঠামোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি এক রুদ্ধদ্বার সভায় ট্রাম্প কৌতুকের ছলে মন্তব্য করেন যে, যারা ওভাল অফিসের ২০০ ফুটের মধ্যে এসেছেন, তাদের সকলকেই তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন। যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই মন্তব্যকে নিছক ‘রসিকতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প এরই মধ্যে ১৮০০-এর বেশি ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছেন, যা একটি রেকর্ড। ক্ষমতার প্রথম দিনেই তিনি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় অভিযুক্ত ১৫০০ জনকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রদান করেন। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর হামলার দায়ে অভিযুক্তরাও বাদ যাননি। এই গণ-
ক্ষমার প্রভাবে বিচার বিভাগীয় জটিলতা এতটাই বেড়েছে যে, ক্যাপিটল হিলের কাছে বোমা রাখার দায়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিও সম্প্রতি তার অভিযোগ খারিজের আবেদন জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ক্ষমা প্রদর্শন নীতি মূলত জো বাইডেন প্রশাসনের নেওয়া বিচার বিভাগীয় পদক্ষেপগুলোর প্রতি এক ধরণের সরাসরি চ্যালেঞ্জ। উদাহরণস্বরূপ, গত অক্টোবরে তিনি
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ‘বিন্যান্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাওকে ক্ষমা করেছেন। এছাড়া পরিচয় চুরি ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক কংগ্রেস সদস্য জর্জ সান্তোসকেও তিনি সাধারণ ক্ষমা করেছেন। সান্তোস সম্পর্কে ট্রাম্পের ভাষ্য ছিল, “সে মিথ্যা বলেছিল ঠিকই, কিন্তু সে শতভাগ ট্রাম্পের পক্ষে ছিল।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মেয়াদের শেষে এই ধরণের গণ-ক্ষমার ঘোষণা ট্রাম্পের অনুসারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি বিচার বিভাগের ওপর তার রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী করার একটি কৌশল। সমালোচকরা বলছেন, এর ফলে মার্কিন আইন ব্যবস্থায় ‘ইনস্টিটিউশনাল নিউট্রালিটি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে,
এই গণ-ক্ষমার চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে বর্তমানে হোয়াইট হাউসের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে জোর তৎপরতা চলছে। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে ট্রাম্প এই ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটালে তা মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, পদদলিত হয়ে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পদদলিত হয়ে শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর)...

বিদেশে ১ পয়সা বিনিয়োগের প্রমাণ দিতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দিবো: আসিফ মাহমুদ

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)...

Related Articles

যে শর্তে ইরানকে পারমাণবিক জ্বালানি দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পরমাণু ইস্যুর সমাধান হলে দেশটিকে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত...

কবে শুরু হচ্ছে প্রথম রোজা? জানা গেল ২০২৭ সালের রমজানের সম্ভাব্য তারিখ

বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাসের সময়সূচি নিয়ে...

সৌদি আরবের তায়েফসহ ৩ শহরে হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তিন শহর লক্ষ্য করে আবারও...

১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অবস্থানরত ২১ কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে রাজনীতি ও দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের...