ভারতের বিহার রাজ্যের আরারিয়া জেলার ফরবেসগঞ্জে পার্কিং সংক্রান্ত সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এক নৃশংসতায় দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। এক মুসলিম চালককে জনসমক্ষে শিরশ্ছেদ করার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর গোটা এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তদন্ত থেকে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ফরবেসগঞ্জ শহরের একটি জনবহুল বাজারে। জোগবানির বাসিন্দা এবং পিকআপ চালক আলী হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদার রবি চৌহানের পার্কিং নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রবি চৌহান চরম উত্তেজিত হয়ে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলী হোসেনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। জনাকীর্ণ বাজারের মধ্যেই আলী হোসেনকে প্রথমে ছুরিকাঘাত এবং পরবর্তীতে অত্যন্ত নৃশংসভাবে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
এই পৈশাচিক দৃশ্য দেখে বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রবি চৌহান পালিয়ে আত্মগোপন করার চেষ্টা করলেও , হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আলী হোসেনের স্বজন ও ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে আসেন। তারা অভিযুক্তের বাড়ির কাছ থেকে তাকে খুঁজে বের করে ধরে আনেন। উত্তেজিত জনতা রবি চৌহানকে লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় ফরবেসগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা একটি
অ্যাম্বুলেন্সও ভাঙচুর করা হয়। উত্তেজনার ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালেও। সেখানে উন্মত্ত জনতা হামলা চালালে ভয়ে হাসপাতালের কর্মীরা পালিয়ে যান। ফলে কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরারিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জিতেন্দ্র কুমার অতিরিক্ত বাহিনীসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ সুপার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে এলাকার বাজার ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। প্রশাসন থেকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলেও জনমনে আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
Leave a comment