লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধ না হলে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনায় বসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তেহরানের এই অবস্থান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সংলাপ প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তা শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই বিপন্ন করবে না, বরং আলোচনার পরিবেশও নষ্ট করবে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চলতে থাকলে তেহরানের পক্ষে কোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ‘অসম্ভব’ হয়ে পড়বে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তেহরানের মতে, যুদ্ধবিরতি একটি পূর্বশর্ত, যার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা প্রশমিত করা সম্ভব। এই শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হবে না। ইরান মনে করছে, যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ বজায় রেখে একই সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানানো একটি দ্বিমুখী কৌশল, যা কার্যকর হতে পারে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সীমিত পরিসরের একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে, তবে বাস্তবে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, লেবানন ইস্যু এখন ইরান–যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের কড়াকড়ি শর্ত—এই দুইয়ের সমন্বয় না হলে আলোচনার পথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
Leave a comment