সুদীর্ঘ ৪২ বছরের গৌরবময় শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি টানলেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেগুপ্তা কানিজ আক্তার। মঙ্গলবার ছিল তাঁর চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা তাঁকে বিদায় জানান এবং তাঁর অবসর জীবনের জন্য শুভকামনা জানান।
জানা গেছে, সেগুপ্তা কানিজ আক্তার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্বভাগ গ্রামের এক শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। পারিবারিক অনুপ্রেরণায় ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারি তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৩ সালে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করেন।
তিনি গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও সিলেট সদর উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ২০১১ সাল থেকে টানা ১৫ বছর দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নানা সম্মাননা ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। ২০০১ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং ২০১২ সালে বিভাগীয় পর্যায়েও একই স্বীকৃতি লাভ করেন। ২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বে বিদ্যালয় উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের মর্যাদা অর্জন করে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে সম্মানিত হন।
তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষার্থী, যারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সহকর্মীরা জানান, তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখাতে সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
বিদায় বেলায় সেগুপ্তা কানিজ আক্তার বলেন, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতোই দেখেছেন এবং তাদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের সফলতা ও মানবিক বিকাশই একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন।
তাঁর অবসরে সিলেটের শিক্ষা অঙ্গন একজন অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষককে হারালেও তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a comment