ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার মামলার পর, অভিনেত্রী মানসী প্রকৃতিসহ কয়েকজন সহকর্মী তার বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও কাজের বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগ শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে
সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে একটি ফেসবুক ভিডিও বার্তায় তিনি আলভী ও তাঁর কথিত প্রেমিকা ইফফাত আরা তিথিকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। এরপর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি ফেসবুকে একটি কড়া স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। মানসী লিখেছেন, লুইচ্চা বেটি ও লুইচ্চা বেটিকে নিয়ে মিথ্যে ও অসভ্য আলোচনা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যেখানে কথা বলার প্রয়োজন ছিল, আমি বলেছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে বাজনা বাজাইনি বলেই সাধারণ মানুষ তা শুনতে পারেনি।” ইকরার আত্মহত্যা নিয়ে যারা মন্তব্য করছেন, তাদেরকেও তিনি কড়া জবাব দিয়েছেন। মানসী বলেন, “কষ্ট পেয়ে একজন মানুষের ব্রেন কোন পর্যায়ে গেলে সে নিজের প্রাণ দিতে পারে, এটা এত সহজ নয়। এর জন্য সাহসের প্রয়োজন, যা সবাই করতে পারে না। ইকরা যে ভুল করেছে, তার শাস্তি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, কারণ সে আর আমাদের মাঝে নেই। বরং বেঁচে থাকা মানুষের জন্য এখন কী করা যায়, সেটাই ভাবা দরকার।”
মানসী প্রকৃতির এই স্পষ্টবাদী মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নেটিজেন তার সাহস ও বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন এবং ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের দাবি তুলেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলভীর কয়েকজন সহকর্মী দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক নারী শিল্পীই অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব পেয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।
সম্প্রীতি ছোট পর্দার পরিচিত মুখ জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাথ খান ইকরার আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে বইছে রহস্যের হাওয়া। ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিনেতা স্বামী যখন নেপালে শুটিংয়ে ব্যস্ত, তখন ঢাকার বাসায় স্ত্রীর এমন চরম সিদ্ধান্তের পেছনে উঠে আসছে দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর গুঞ্জন।
নেটিজেনদের মতে, অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে আলভীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই এই ট্র্যাজেডির মূল কারণ। গত শুক্রবার তিথির জন্মদিন উপলক্ষে আলভী তার ভেরিফায়েড পেজে একটি ঘনিষ্ঠ ছবি শেয়ার করেন, যেখানে দুজনকে একটি গামছায় জড়ানো অবস্থায় দেখা যায়। ক্যাপশনে আলভী তিথিকে তার ‘পছন্দের কো-আর্টিস্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই দম্পতির ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলো কলহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী লিখেছিলেন, ‘ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না।’ এর কয়েক ঘণ্টা পর ইকরা তার ফেসবুকে একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি দিয়ে ইংরেজিতে লেখেন, ‘কেউ একজন কারও পুরো জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার পর নিজের মাত্র একটা দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে… কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ।’ সামাজিক মাধ্যমে এই স্ক্রিনশটগুলো এখন ভাইরাল।
তবে আলভীর সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে তিথি বলেন, ‘তার (আলভী) সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। কোনো অফিসে যখন আপনার কলিগ থাকে, আপনি যখন তার সঙ্গে চার-পাঁচ বছর অফিস করবেন, তখন আপনার সঙ্গে তার ভালো বন্ধুত্ব হতেই পারে। আমি আগেও বলছি যে, ইন্ডাস্ট্রিতে আলভী আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আগেও অনেক সাক্ষাৎকারে এই কথাটা বলছি।’ বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিথি ইকরার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথোপকথনের ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিথি লেখেন, “সাধু সাজবেন না। সবার আমলনামা আমার কাছে আছে।” তার দাবি, চলমান বিতর্কে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়িয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইকরার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তিথি তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি লেখেন, “আল্লাহ ওকে ভালো রাখুক, শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক।”
প্রসঙ্গত, স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যা মামলার প্রধান আসামি অভিনেতা জাহের আলভী দেশে ফিরলেও তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১ মার্চ) বিকেলে নেপাল থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান আলভী। বিমানবন্দরে কিছু সময় অবস্থানের পর একজন মধ্যস্থকারীর মাধ্যমে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে জানা গেছে। দেশে ফেরার পর থেকেই তার ফোন, ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, ফলে তার অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নেপালে অবস্থানকালে আলভী জানিয়েছিলেন, দেশে ফিরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবেন। তবে দেশে ফেরার পর তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি।
এদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হবে। ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। একই মামলায় অভিনেত্রী তিথি ও আলভীর মাকেও আসামি করা হয়েছে। ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলাটি করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ভালোবেসে সংসার শুরু করেন আলভী-ইকরা। তাদের ঘরে এক পুত্রসন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। সামাজিক মাধ্যমে ইকরার ব্যক্তিগত কিছু চ্যাট ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





Leave a comment