তুরস্কে ঘুমন্ত অবস্থায় রহস্যজনকভাবে এক বাংলাদেশি বাবা ও তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। একই বাসায় থাকা আরেকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা তারেক মিয়া (৪৫) এবং তাঁর ছেলে সাব্বির (২২)। একই বাসায় থাকা সাব্বিরের চাচাতো ভাই লিটন মিয়া (২৬) বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তুর্কি পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তুরস্কে পাড়ি জমান তারেক মিয়া। সেখানে তিনি একটি প্লাস্টিক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তিনি তুরস্কে নিজের একটি স্থায়ী জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন।
প্রায় দুই বছর আগে তাঁর ছেলে সাব্বিরও তুরস্কে যান এবং বাবার সঙ্গে একই বাসায় বসবাস শুরু করেন।
সহকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন মঙ্গলবার রাতে কাজ শেষে তারেক মিয়া, তাঁর ছেলে সাব্বির এবং তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন একসঙ্গে বাসায় ফেরেন। পরে তারা সবাই মিলে রাতের খাবার খান।
খাবারের পর সবাই ঘুমাতে যান। কিন্তু পরদিন সকালে অনেক ডাকাডাকির পরও বাবা-ছেলের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে সন্দেহ হলে সহকর্মীরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তারেক মিয়া ও সাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময় অসুস্থ হয়ে পড়া লিটন মিয়াকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সহকর্মীদের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তুর্কি পুলিশ ধারণা করছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
Leave a comment