ছোটপর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে দেশের শোবিজ অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন আলভীর সহকর্মী অভিনয়শিল্পী ইফফাত আরা তিথি।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিথি ইকরার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথোপকথনের ৪৪টি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ তুলে সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিথি লেখেন, “সাধু সাজবেন না। সবার আমলনামা আমার কাছে আছে।” তার দাবি, চলমান বিতর্কে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়িয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। ইকরার পরিবারের দাবি, আলভীর সঙ্গে সহকর্মী ইফফাত আরা তিথির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, সেই মানসিক চাপই তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই ঘটনার পর ইকরার বাবা কবির হায়াত খান রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।
এরই মধ্যে শোবিজ অঙ্গনে গুঞ্জন ওঠে যে, সম্প্রতি একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য যাহের আলভী ও তিথি নেপালে গিয়েছিলেন। সেখানে ২৭ ফেব্রুয়ারি তিথির জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। তবে যাহের আলভী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিথি বলেন, প্রথমে তিনি এই ব্যক্তিগত চ্যাটগুলো প্রকাশ করতে চাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থাকে এগুলো দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে যে ধরনের মন্তব্য ও অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা তাকে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিথি লিখেছেন, “আমি ভেবেছিলাম এই চ্যাটগুলো পাবলিকলি দেব না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে তখন দেখাব। কিন্তু যেভাবে আমাকে হ্যারাস করা হচ্ছে, তাতে আর চুপ থাকা সম্ভব হয়নি।” তিথির দাবি, যাহের আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যে ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
তিনি বলেন, ইকরার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। প্রকাশ করা স্ক্রিনশটগুলোতে দেখা যায়, ইকরা তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা হতাশা, পারিবারিক সমস্যা এবং মানসিক চাপ নিয়ে তিথির সঙ্গে কথা বলেছেন।তিথির বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কখনো ইকরাকে সংসার ভাঙার পরামর্শ দেননি। বরং তাকে সংসার টিকিয়ে রাখার পরামর্শই দিয়েছেন।
একটি চ্যাটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে তিনি ইকরাকে লিখেছিলেন—“তুমি রানি, তুমি তার (আলভীর) কুইন।”
এই প্রসঙ্গ তুলে তিথি প্রশ্ন রাখেন, যদি তিনি সংসার ভাঙার চেষ্টা করতেন, তাহলে কেন এমন কথা বলবেন?
ফেসবুক পোস্টে তিথি ইকরার পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও কিছু বিষয় তুলে ধরেন। তার দাবি, ইকরা ব্যক্তিগতভাবে তাকে জানিয়েছিলেন যে, পরিবারের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
তিথির ভাষ্য অনুযায়ী, ইকরা তাকে লিখেছিলেন—২০১৮ সালে তিনি একবার আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সে সময় পরিবার তাকে বিদেশে পাঠানো বা অন্যভাবে সহায়তা করতে রাজি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ইকরার মনে ক্ষোভ ছিল বলেও দাবি করেন তিথি।
দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে তিথি সংশ্লিষ্ট অভিনয়শিল্পী সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য। তিনি বলেন, সত্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত।
একই সঙ্গে ইকরার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তিথি তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি লেখেন, “আল্লাহ ওকে ভালো রাখুক, শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক।”
এদিকে যাহের আলভীর স্ত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। শোবিজ অঙ্গনে আলোচিত এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ব্যক্তিগত চ্যাট প্রকাশ এবং আইনি প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
Leave a comment