ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোর কাছে আক্রান্ত দেশ হিসেবে সহানুভূতি ও সমর্থনের আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের কাছে যুদ্ধের সরঞ্জাম বা লজিস্টিক সহায়তার প্রয়োজন নেই, বরং মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে নিন্দা জানালে তেহরান সন্তুষ্ট হবে।
রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী আরও জানিয়েছেন, গত শনিবার ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ ঘটনায় ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ দুই দফায় বিবৃতি দিলেও প্রথমবার ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করায় বিষয়টি নানা মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। জাহানাবাদী আশা প্রকাশ করেছেন, ওআইসি ও ন্যাম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করবে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগ্রাসী শক্তি যদি সহায়তা পায়, ইরান বাধ্য হয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালাবে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক চুক্তি থাকলেও তা সরাসরি যুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়, উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে জাহানাবাদী দাবি করেন, বাইরের হামলার মুখে ইরানের অভ্যন্তরীণ মতভেদ ঘুচে জনগণ সরকারপক্ষের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ নেতা কোনো বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না, স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিলেন। সেই সুযোগে হামলা চালানো হয়েছে। নতি স্বীকারের চেয়ে লড়াই করে শাহাদাত বরণ আমাদের জন্য গৌরবের।’
ইরান দূতাবাসের এ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ও সাধারণ প্রবাসী অংশগ্রহণকারীদের সংহতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

Leave a comment