চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. আনোয়ার (৪৩) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর এলাকার খান সিটি সেন্টার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লাতু মিয়া ওরফে মফিজুর রহমানের ছেলে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দুর্গাপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে ছয় বছরের শিশু ‘চম্পা’ (ছদ্মনাম) পাশের বাড়িতে খেলতে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় তার মা খোঁজ করতে শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, শিশুটির মা পাশের বাড়ির দরজা ধাক্কা দিয়ে খুললে মেয়েটি কান্নারত অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তার পোশাক ভেজা এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবার বিষয়টি সন্দেহ করে। পরে শিশুটিকে দ্রুত মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা চলছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ার ধারালো অস্ত্র নিয়ে হুমকি দেয় এবং কাউকে বিষয়টি না জানানোর জন্য ভয় দেখায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি জোরারগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
র্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ.আর.এম. মোজাফ্ফর হোসেন এক বিবৃতিতে জানান, গ্রেপ্তারকৃত মো. আনোয়ারকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, “শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে র্যাব-৭ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। শনিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment