আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক এর ইউরোপ শাখা। তবে এ পর্যন্ত তালেবান সরকার বা পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি নিশ্চিত করেনি।
ওসিন্ট ইউরোপের এক বার্তায় বলা হয়, শুক্রবার ভোর ৬টা ৩ মিনিটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের পরিচালিত ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযানে কাবুলে বিমান হামলার ফলে আখুন্দজাদা এবং কয়েকজন শীর্ষ তালেবান কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
২০১৯ সালের পর আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে এবং পরবর্তীতে সরকার গঠন করে। সেই সময় থেকেই হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তালেবান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত তার অনুমোদনেই কার্যকর হয়।
তিনি জনসম্মুখে খুব কমই উপস্থিত হতেন এবং অধিকাংশ সময় দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহারকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব দিতেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালায়। পাকিস্তানি সূত্রে দাবি করা হয়, ওই অভিযানে ৮০ জনের বেশি নিহত হন।
এর জবাবে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও আহত হন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে দাবি করেন, আফগান বাহিনী নাইট ভিশন ও লেজার-নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ডুরান্ড লাইনে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরুর ঘোষণা দেয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় বলেন, “দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধারণের পর পাকিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতির জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে পাকিস্তান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আখুন্দজাদার নিহত হওয়ার বিষয়ে কিছু জানায়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে একাধিক পক্ষের দাবির মধ্যে সঠিক তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। ওসিন্ট ইউরোপের দাবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোড়ন তুললেও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
তালেবান প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি, যা আখুন্দজাদার অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়। আফগানিস্তানের ভেতরে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
Leave a comment