বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দুই বাক্যের একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস রাতারাতি ভাইরাল হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত পোস্টটি এক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলে।
পোস্টটি প্রকাশের এক ঘণ্টার মধ্যে এতে ২ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া, চার হাজারের বেশি শেয়ার এবং প্রায় ৩৩ হাজার মন্তব্য পড়ে—যা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত অনলাইন প্রতিক্রিয়ার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শফিকুর রহমান স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফের বাংলাদেশ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ। এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রসঙ্গে আরেকটি পোস্টে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। সেখানে তিনি লেখেন, “মাতৃভাষা মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। এর মর্যাদা রক্ষায় আমরা দায়বদ্ধ।”
ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বার্তা সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। সমর্থকরা পোস্টটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সমালোচকরাও নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন।
চলতি বছর প্রথমবারের মতো অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জামায়াত আমির রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মরণ করেন এবং দোয়ায় অংশ নেন।
দলীয় সূত্র বলছে, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতেই এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা হয়।
শফিকুর রহমানের সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস এবং শহীদ মিনারে তার উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে নেতাদের সরাসরি ও সংক্ষিপ্ত বার্তা এখন জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক ইস্যুকে ঘিরে দেওয়া বক্তব্য দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
Leave a comment