চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে দগ্ধ শাওন (১৬) নামের কিশোর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মেল হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাওনের শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এর আগে সোমবার রাতে একই বিস্ফোরণে দগ্ধ নুরজাহান আক্তার রানীকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল; তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
ডা. শাওন বিন রহমান জানান, এখনও সাতজন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে: শাখাওয়াত ও পাখি আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ,শিপনের ৮০ শতাংশ দগ্ধ ,সামির ও আয়েশার ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ,স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ দগ্ধ ,আনাসের শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে । চিকিৎসকদের মতে, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাদের মধ্যে কেউ শঙ্কামুক্ত নয়।
প্রসঙ্গত, হালিশহরের এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণ ঘটে । বিস্ফোরণে একই পরিবারের কয়েকজনসহ মোট ৯ জন দগ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পর্যায়ক্রমে ঢাকায় আনা হয়। নিহত শাওন ছিলেন দগ্ধ শাখাওয়াত হোসেনের বড় ছেলে। গতকাল মারা যাওয়া নুরজাহান আক্তার রানী ছিলেন শাখাওয়াতের স্ত্রী।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থা বিস্ফোরণের পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। আহতদের মধ্যে অধিকাংশের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকদের সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামে এই ধরনের গ্যাস দুর্ঘটনা নিরাপত্তা ও নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
Leave a comment