রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাসহ চারজনকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন— এনসিপির ঢাকা মহানগর মোহাম্মদপুর থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুর রহমান মানিক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি, হাবিবুর রহমান ফরহাদ ও মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। এছাড়া আসামি মো. শাহিন হোসেনকে প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় সেইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাঁদাবাজির চেষ্টা চালান আসামিরা। সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এরপর হাসপাতালের মালিক শিল্পী আক্তার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, অভিযুক্ত শাহিন হোসেন তার গর্ভবতী স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি করান। কিন্তু প্রসবের সময় মৃত সন্তান জন্ম নিলে শাহিন ও তার সহযোগীরা হাসপাতালের মালিকের ছেলে আবু সাইদের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে মামলা ও ভাঙচুরের হুমকি দেন।
হুমকির মুখে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং পরে আরও এক লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। এ সময় হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, আসামিদের একজন সাইফুল ইসলাম রাব্বি এর আগেও বিতর্কে জড়ান। গত ২০ মে ধানমন্ডিতে এক প্রকাশকের বাসায় গিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণের অভিযোগে তিনি আটক হয়েছিলেন। পরে এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি জানান, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে মব তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।
Leave a comment