ইসরায়েলি যুদ্ধের ভয়াবহতায় ধসে পড়া ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকার করুণ চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন খ্যাতিমান মার্কিন অভিনেত্রী ও সাবেক জাতিসংঘ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গুগল আর্থের স্যাটেলাইটে ধারণ করা গাজার বিভিন্ন স্থাপনার ‘আগে ও পরে’র ছবি প্রকাশ করে এই মর্মান্তিক বাস্তবতার প্রতি নজর টানেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টে জোলি উল্লেখ করেন, বর্তমানে গুগল আর্থ খুললেই গাজায় সংঘটিত ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য অতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। ভূ-উপগ্রহের স্যাটেলাইট ছবিতে যুদ্ধ শুরুর পূর্বের পরিবেশ এবং বর্তমানের ধ্বংসলীলার পার্থক্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
জোলির ভাষ্য অনুযায়ী, গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন স্রেফ ধ্বংসস্তূপের স্তূপে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের বাসস্থান ও ঘরবাড়ির পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, প্রধান প্রধান সড়ক এবং পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো জরুরি অবকাঠামোগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।
মানবাধিকারবিষয়ক এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা জোলি আরও জানান, বর্তমানে গাজা উপত্যকায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। তবে সেখানকার অসহায় মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং চরম বিলম্বের সৃষ্টি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হলিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে শরণার্থী ও মানবিক সংকট নিরসনে বিশ্বজুড়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সংস্থাটির বিশেষ দূত হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
Leave a comment