নরসিংদীর মাধবদীতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর দুই সন্তানকে হারপিক পান করিয়ে নিজেও তা পান করেছেন উর্মি (২২) নামের এক নারী। এতে উর্মি ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মিমের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উর্মির আড়াই বছর বয়সী ছেলে আবির ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আজ শুক্রবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুর সোয়া একটার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উর্মির মা নার্গিস বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর উর্মির স্বামী মিলন মিয়াকে আটক করা হয়েছে।
উর্মির স্বামী মিলন পেশায় গাড়িচালক। তিনি পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মিম ও আড়াই বছর বয়সী ছেলে আবিরকে নিয়ে মাধবদী পৌরসভার বসুন্ধরা এলাকার কান্দাপাড়ায় শেফালী বেগম নামের এক নারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে উর্মি ও তাঁর স্বামী মিলনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এর জেরে উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান।
পরে আনন্দী এলাকায় গিয়ে উর্মি হারপিক পান করেন এবং দুই সন্তানকেও তা পান করান। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবিরকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। সে সেখানে চিকিৎসাধীন।
ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। উর্মির স্বামী মিলনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
Leave a comment