সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে আট দফা বিমান হামলা হয়েছে। এতে বিমানঘাঁটির রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সানা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোরে ইদলিবের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতে এসব হামলা চালানো হয়।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতে আটটি হামলা চালায়।
তবে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক সোহাইব আল-খালাফ বলেন, সিরিয়ার সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোয় ইসরায়েলের আগের হামলার ধরন ও এবারের হামলার মধ্যে মিল রয়েছে। তাঁর মতে, এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে এটিই প্রথম হামলা বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধে বিমানঘাঁটিটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৫ সালে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বিরোধী গোষ্ঠীগুলো ঘাঁটিটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে ২০১৯ সালে আসাদ সরকারের অনুগত বাহিনী এটি পুনর্দখল করে। তবে যুদ্ধের সময় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ঘাঁটিটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।
আল-জাজিরার আরেক প্রতিবেদক হেইডি পেট্ট জানান, আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলি হামলার মাত্রা বেড়েছে।
তিনি বলেন, আসাদ সরকারের সময় থেকেই সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে ইসরায়েলি অভিযান চলছিল। তবে আসাদ সরকারের পতনের পর এসব হামলা আরও বেড়েছে।
হেইডি পেট্টের ভাষ্য, ধারাবাহিক হামলায় সিরিয়ার বিমানবাহিনীর সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। গত দেড় বছরে সিরিয়া নিজেদের বিমান সক্ষমতার কিছু অংশ পুনর্গঠনের চেষ্টা করলেও সেই প্রচেষ্টাকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
Leave a comment