পাবনার ঈশ্বরদীতে মাথায় ও শরীরে কাফনের কাপড় পরিধান করে প্রকাশ্যে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পী। সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী থানা ফটকের সামনে এই অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে এমন মহড়ার কারণে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শহর জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজ বাসস্থান থেকে জুবায়ের হোসেন বাপ্পী মাথায় ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে থানা ফটকে অবস্থান নেন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বাপ্পীর দাবি, তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন। তবে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে তার মহড়া দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে চরম ভীতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরাও দ্রুত থানা ফটকের সামনে এসে অবস্থান নেন। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান এবং ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনিসহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে বাপ্পী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো ও প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই তিনি এভাবে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছেন বলে তারা দাবি করেন এবং এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে থানা হেফাজতে নিয়ে নেয়। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, পুলিশি তৎপরতায় বর্তমানে এলাকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। জুবায়ের হোসেন বাপ্পী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। প্রতিপক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a comment