ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী এলাকায় এক যুবকের হাত-পা কাটা এবং ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ যদুনন্দী মৌজার একটি সড়কের পাশ থেকে ওই যুবকের মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই যুবকের নাম পান্নু ফকির (৩৯) ওরফে জামু রহমান ফকির। তিনি সালথা উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সালথা বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন পান্নু ফকির। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং দুই হাত ও পা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর দুর্বৃত্তরা মরদেহটি যদুনন্দী এলাকার একটি নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। সকালে স্থানীয় পথচারীরা রক্তাক্ত মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে খবর দেন।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) আল ফাহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের শরীরে গুরুতর ও নৃশংস আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোনো স্থানে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার পর মরদেহটি চাক্ষুষ প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে এই সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ উদঘাটন এবং অপরাধের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে আসামিদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
Leave a comment