ঢাকার সাভারে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় নয়ন মন্ডল (৪৮) নামের এক বাসচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণী একজন চাকরিপ্রার্থী। ডিগ্রি পরীক্ষা শেষ করে কিছুদিন আগে কাজের সন্ধানে গ্রামের বাড়ি থেকে সাভারে আসেন তিনি। কাজ না পেয়ে আমিনবাজারের মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় ঘোরাঘুরি করার সময় শীলা বেগম ও তাঁর স্বামী ইমরানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
থাকার জায়গা না থাকায় শীলা ও ইমরান তাঁকে তাঁদের বাসায় থাকার প্রস্তাব দেন। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে তরুণী মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় তাঁদের ভাড়া বাসায় যান।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত রোববার রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে ইমরান বাসায় না থাকায় তরুণী ও শীলা একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় নয়ন ওই কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। শীলা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শীলার সহযোগিতায় নয়ন ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাঁকে ‘খারাপ মেয়ে’ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে বলে শীলা হুমকি দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, পরে ইমরান বাসায় ফিরে তরুণীকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইমরানকে বিষয়টি জানান। পরে ইমরান তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ওই তরুণী মঙ্গলবার সকালে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় নয়ন মন্ডলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং শীলা বেগমের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নয়ন মন্ডল পেশায় বাসচালক এবং তিনি সাভারের মধুমতি মডেল টাউন এলাকায় ভাড়া থাকেন। ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, মামলা হওয়ার পর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a comment