সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী না দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও চৌরাস্তায় জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।
লিখিত বক্তব্যে মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকনকে মনোনীত করার খবর দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ তাওহিদি জনতার প্রত্যাশার পরিপন্থী। তাঁর দাবি, শামীম কায়সার লিংকন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মতাদর্শ ও চেতনাবিরোধী। তিনি পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও চার মাজহাবের বিরোধী এবং লা-মাজহাবি আকিদায় বিশ্বাসী বলেও দাবি করেন তিনি।
মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠী হানাফি মাজহাব অনুসরণ করে। ফলে উলামা-মাশায়েখ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেবেন না।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকনের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেন সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের নেতারা। মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, শামীম কায়সার লিংকন একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁকে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য হবে না। এ প্রস্তাব অবিলম্বে বাতিল করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তাঁরা।
একই সঙ্গে উলামায়ে কেরামের সঙ্গে আলোচনা করে একজন যোগ্য, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত ক্ষেত্র। ইসলামী কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং আলেম সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে এ দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এতে আলেমদের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে সরকারকে ক্ষমতায় আনতে উলামায়ে কেরামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাই এ বিষয়ে আলেমদের মতামত ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে। তাঁদের দাবি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়; ধর্মীয় মর্যাদা ও কওমি আলেমদের স্বার্থ রক্ষার জন্য।
দাবি মেনে না নিলে সরকার ও উলামায়ে কেরামের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর মধুপুর, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা মুফতি নাজমুল হাসান কাসেমী, জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলুম খিলগাঁওয়ের মুহতামিম মাওলানা জহুরুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
Leave a comment