দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসনের ভোট’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, এর ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ২টা ১০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়। ভোট গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
ভোট গ্রহণ শেষে জানা যায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি। তাঁরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক, চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে তিনটি কারণের কথা জানান।
প্রথম কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তাঁর কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটি নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী হবে, তা সবার জানা ছিল। তাই এটিকে নির্বাচন না বলে মনোনয়ন বলা যায়।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে রুমিন ফারহানা বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে জাতির আত্মত্যাগ ও অনেক স্বপ্ন জড়িত। এরপরও সবাই মিলে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করতে পারেনি।
তৃতীয় কারণকে নিজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কথা বলেছে। দলের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর যে বিধান রয়েছে, সেটিকে তিনি ‘প্রহসনের ভোট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। একইভাবে তিনি সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও তাঁর সদস্যপদ শূন্য হবে।
Leave a comment